ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
হামে আক্রান্ত শিশু রোগী এবং তাদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ‘মিনি হাইজিন পার্সেল’ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ময়মনসিংহ ইউনিট।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তিনি আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের হাতে হাইজিন পার্সেল তুলে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। একইসঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও প্রহরীদের মধ্যেও রেড ক্রিসেন্টের সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সময়মতো টিকাদানের মাধ্যমে এর বিস্তার অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মানবসেবাই বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মূল লক্ষ্য। অসহায় ও সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সবসময় সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।
হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে রেড ক্রিসেন্ট ও যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা তৃণমূল পর্যায়ে মাইকিং, প্রচারপত্র বিতরণ এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হতদরিদ্র শিশুদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং রোগীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ময়মনসিংহ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১২৯টি পরিবারের মাঝে সুরক্ষা কিট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৭২টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এ সময় ইউনিট লেভেল অফিসার (ইউএলও) হায়দার আলী, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলমান প্রাদুর্ভাবের সময়ে হাসপাতালে হামে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।
একই সময়ে নতুন করে ২৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু।