জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিয়ান বিন হক অনিক জবি ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা ও আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাহিয়ান বিন হক অনিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সেই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ছাত্রদলের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি যুক্ত ছিলেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং জুলাই বিপ্লবেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা হরতাল কর্মসূচি থেকে সূত্রাপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। সারারাত নির্যাতনের পর পরের দিন ৫৪ ধারায় তাকে সিএমএম আদালতে চালান করা হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে (বর্তমান শহীদ সাজিদ ভবন) ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীদের দ্বারা প্রায় ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রক্টর অফিস তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে তিনি ২৪ দিন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করেন এবং ২৭ অক্টোবর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। এই মামলায় তিনি টানা দুই বছর আদালতে হাজিরা দেন। তখন তার বয়স ছিল ২৩ বছর।
নাহিয়ান বিন হক অনিক বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন অনেক আগে, যখন বর্তমানের অনেক তথাকথিত ত্যাগী নেতার রাজনৈতিক পথচলাই শুরু হয়নি। তার মতে, রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি গঠনে নিয়ম-নীতি, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা যথাযথভাবে মেনে চলা জরুরি; অন্যথায় সংগঠনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, “সুদিন বা দুর্দিন দেখে বিএনপি করিনি। আদর্শের রাজনীতি করেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জাতীয়তাবাদের আদর্শের সাথেই থাকব।”
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, নাহিয়ান বিন হক অনিকের মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে আসা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত একজন নেতা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকরা চান তার মতো ত্যাগী নেতারা সংগঠনের নেতৃত্বে আসুক। তাহলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং রাজপথে ছাত্রদলের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।”